আজ-  ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» বগুড়া সান্তাহারে বিদুৎ এর প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত  «» বগুড়া আদমদিঘীতে পুকুর থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার «» বগুড়ায় ২ ছাগল চোর আটক «» (সংশোধনী) ডিজিটাল আইনগুলো মানুষের মত প্রকাশ ও ব্যক্তি-গোপনীয়তার জন্য এখনো ঝুঁকিপূর্ণ; «» নওগাঁয় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস- ২০২৬ পালিত «» “কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন। «» নওগাঁয় কালবৈশাখীর তান্ডব, অন্তঃসত্ত্বা বেদে নারীর মৃত্যু «» আমরা চাই চাকরীর নিশ্চয়তা, জীবনের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা «» বগুড়ায় বজ্রপাতে এক যুবক নিহত      «» সংবাদ সম্মেলনে হামলা, ভাঙ্গচুর ও নির্যাতনের অভিযোগ

কমলগঞ্জে ভাতিজার দা’য়ের আঘাতে চাচী নিহত, আটক-১


কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ভাতিজার দা’য়ের আঘাতে চাচী বকুল বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত বকুল বেগম (৫৬) সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের মৃত ইলিয়াছ মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হয়েছেন বকুল বেগমের মেয়ের জামাই অজুদ মিয়া (৩৫), একই এলকার সেলিম মিয়ার ছেলে সাঈদুল ইসলাম (১৮) ও আমিনুল ইসলাম (১৬)। হামলাকারীকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন খোঁঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুরে পারিবারিক দ্বন্ধে হেলিম মিয়া তার ভাইয়ের ঘরে প্রবেশ করে ভাতিজা সাইদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে প্রাণ রক্ষায় আমিনুল ও সাইদুল দৌড়ে এসে প্রতিবেশী বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানে হেলিম এসে আবার ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এসময় ছুরির আঘাতে বকুল বেগম, বকুল বেগমের মেয়ের জামাই অজুদ মিয়া, সাইদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক বকুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম ও অজুদ মিয়ার অবস্থা গুরুতর থাকায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরে স্থানীয় এলাকাবাসী হামলাকারী হেলিম মিয়াকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি ও মাদকা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে হেলিম মিয়া (৪০) বকুল বেগমের বসতঘরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় আমিন মিয়া বাঁধা দিতে গেলে তাকেও কূপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বকুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আমিন মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, হেলিম দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। সে এর আগে এলাকার অনেক মানুষকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। কয়েকবার পুলিশ আটক করলেও কিছুদিন জেল কেটে আবার বের হয়ে যায়।
নিহত বকুল বেগমের মেয়ে পারভীন বেগম বলেন, হেলিম মিয়া তার ভাতিজাদেরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আমাদের ঘরে নিয়ে আসে। এসময় আমার মা সাইদুল ও আমিনুলকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে আমার মা ও বোনের জামাইকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে আমার মাকে হত্যা করে। এমন নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত বকুল মিয়ার ঘরে স্বজনদের আহাজারি করছেন।
স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য পপি বেগম বলেন, হেলিম মিয়া তার ভাইয়ের বউকে দেখে ছুরি দিয়ে দৌড়ে ঘরে নিয়ে আসে। এসময় হেলিম মিয়া তার ভাতিজাদেরকে আঘাত করে। তারা বাঁচার জন্য প্রতিবেশি বকুল বেগমের ঘরে ঢুকে। সেখানে হেলিম এসে ৪ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এসময় তিন জন গুরুতর আহত হলেও বকুল বেগম মারা গেছেন।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, স্থানীয়রা হেলিম মিয়াকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় বকুল বেগম মারা গেছেন ও ৩ জন আহত হয়েছেন। হেলিমের বিরুদ্ধে আগেও থানায় কয়েকটি মামলা ছিলো। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নোট: ছবি সংযুক্ত।
কমলগঞ্জে দু’দিনব্যাপী কৃষি ব্যবসা ও বিপণন পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে লাঘাটাছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি (পাবসস) লিমিটেড এর অংশগ্রহণে দু’দিনব্যাপী কৃষি ব্যবসা ও বিপণন পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প ২য় পর্যায়, এলজিইডি, মৌলভীবাজার এর ব্যবস্থাপনায় ২১ ও ২২ এপ্রিল লাঘাটাছড়া পাবসস কার্যালয়ে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন, মৌলভীবাজার জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মারুফ উদ্দীন চৌধুরী, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. হাবিবুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাইফুল আজম, সোসিওলজিষ্ট মাহবুবুর রহমান, কৃষি অফিষার মো. আকিব হাসান, ফ্যাসিলিটেটর জচ্ছাইউ মার্মা প্রমুখ।
প্রশিক্ষণে ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পকৃত লাঘাটাছড়া পাবসস লিমিটেড এর সদস্যদের কৃষি ব্যবসা ও বিপণন পরিকল্পনা বিষয়ে বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন। ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদান এবং প্রশিক্ষণের সুবাদে এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিকতর সুফল ভোগ করার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়। উৎপাদনের পর পরবর্তী কার্যক্রম, গোদাম ঘরের মাধ্যমে কৃষি ব্যবসা ও বিপণন পরিকল্পনা কার্যক্রমে কৃষকরা যাতে দ্রুত উপকৃত হতে পারেন এবং এলাকায় কৃষি উৎপাদনে অধিকতর মনোনিবেশন করতে পারেন সেসব বিষয়ে সচিত্র ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণে লাঘাটাছড়া পাবসস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা কমিটি, হিসাব রক্ষক, গুদাম রক্ষক, কৃষি ব্যবসা ও বিপণন উপকমিটি, কৃষি উপকমিটি এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উপকমিটির ও উপপ্রকল্প এলাকার নির্বাচিত পাবসস সদস্য বা কৃষকবৃন্দসহ ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন।